বঙ্গের কঠোর সত্য

সম্পাদকীয়: বঙ্গীয় গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ, অর্থাৎ সংবাদ মাধ্যম সত্যপ্রকাশে বড়ই অপারগ। তাহারা নবান্ন আর হরিশ চ্যাটার্জী স্ট্রীট - এই দুই পিতৃব্যের লোফালুফি ক্রীড়ায়, অহর্ণিশ কেমন যেন তাহাদের মেরুদণ্ড-টিকেই  লুপ্তপ্রায় করিয়া ফেলিয়াছে। এহেন কিংকর্তব্যবিমূঢ় কর্গজ-সিংহ যে গর্জন ভূলিয়া মার্জার সন্নিভ মিয়াঁ-রবেই পত্রিকা ও দূরদর্শন মার্গে বিচরণ করিবে, তাহাতে বিষ্ময়ের অবকাশ মাত্র নাই।

অদ্য হইতে শতবর্ষ পূর্বে অমৃত বাজার পত্রিকার তুষার কান্তি ঘোষ মহাশয় কিংবা ভূপেন্দ্র দত্ত বা অরবিন্দ ঘোষ বাবুরা যেমত ইংরাজের বিরুদ্ধে তাহাঁদের লিখনী সমরে অবতীর্ণ হইয়াছিলেন, অথবা বিগত শতাব্দীর বর্তমান পত্রিকায় বরুণ সেনগুপ্ত বা কিঞ্চিৎ হইলেও আনন্দ বাজারে অভীক সরকারের সম্পাদকীয় মুখরতা এক্ষণে বিরল। বোধ করি অনুশীলন সমিতির বাঙালি, যুগান্তরের বাঙালি, আজাদ হিন্দের বাঙালি শেষে  সত্যবর্জিত, তথ্যবর্জিত হইয়া সংস্থাগত প্রজ্ঞাপনকেই প্রকৃত সংবাদ ভাবিয়া ভ্রান্তিনিবাস করে, ও দুর্বৃত্ত রাজনেতা/ রাজনেত্রীর প্রচার সম্বল করিয়া জীবন ধারণ করে। বাঙালির এই পতনের সোপান যে ইহকালীন সংবাদ মাধ্যম তাহা মনে করিতে দ্বিধা নাই।

কলিযুগে যে তথ্যমেবাদ্বিতীয়ম; তথাপি সমাজ জীবনে এহেন অতুল্য সত্যক্ষয় হইতে বাঙালির আত্মোদ্ধার কি তাহা হইলে সম্ভব নহে? নিশ্চয়ই এই ব্যাধি হইতে আরোগ্য লাভ সম্ভব বলিয়া আমার ধারণা, এবং তাহা সার্থক হইবে আমাদিগের, আপনাদিগের, সকল মানুষের অন্বেষণ প্রচেষ্টায়। বৈ-পত্রিকা "বাংলার মত" উপর্যুক্ত আরোগ্যের-ই এক ক্ষুদ্র পাথেয়।

- সম্পাদক


No comments

Theme images by Leontura. Powered by Blogger.